Sunday, August 7, 2016

আলোচ্য ঔষধ

আর্জেন্ট নাইট।
আর্জেন্ট নাইট আর্জেন্টাম গ্রুপের একটি খনিজ ঔষধ।আর্জেন্টাম গ্রুপের অন্যান্য ঔষধগুলো হল : ১.আর্জেন্টাম সায়ানেটাম। ২.আর্জেন্টাম আয়োডেটাম। ৩.আর্জেন্টাম মেটালিকাম। ৪.আর্জেন্টাম ব্রোমেটাম। ৫.আর্জেন্টাম কার্বোনিকাম। ৬.আর্জেন্টাম ফ্লোরেটাম। ৭.আর্জেন্টাম মিউরিটিকাম। ৮.আর্জেন্টাম অক্সিডেটাম। ৯.আর্জেন্টাম ফসফরিকাম। ১০.আর্জেন্টাম সালফুরিকাম।
আজকে রাস্তা দিয়ে হাটার সময় মনে হল রাস্তার পাশের একটা বিল্ডিং আমার উপর ভেঙে পড়বে।এ লক্ষণটি আর্জেন্ট নাইটের একটি চমৎকার মানসিক লক্ষণ।
আর্জেন্টাম গ্রুপের সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ : ধাতুপ্রকৃতি : রোগাটে কিন্তু স্বাস্থ্যেজ্বল,পাতলা,শীর্ণ ও দুর্বল,লম্বা তৎসহ ফ্যাকাশে মুখমন্ডল। স্রাব : ঘন ,প্রচুর। সাদা এবং আঠাল। হলুদাভ ,পুরু ,রক্তাক্ত এবং দুর্গন্ধ। ব্যথা : তীক্ষ্ণ,কেটে ফেলার ন্যায়,গোঁজ থাকার ন্যায়।
আর্জেন্ট নাইটের ধাতুগত লক্ষণ : শরীর শুকিয়ে যায়,রোগা,বুড়োদের মত দেখতে এরূপ রোগী।প্রতিবছরই রোগাটে ভাব বাড়তে থাকে-নিমাঙ্গে বেশী দেখা যায় ; পুয়ে পাওয়া (শিশুদের)।
বুক ধড়ফড়ানি তাড়াতাড়ি হাটলে বাড়ার কথা অথচ তাড়াতাড়ি হাটলে বুক ধড়ফড়ানির উপশম আর্জেন্ট নাইটের অদ্ভুত লক্ষণ।
কোথাও যাওয়ার আগে বাথরুম পায় অর্থাৎ মলত্যাগের বেগ আসে।কথাটিকে এভাবেও বলা যায়- কোথাও যেতে গেলে ভীষণ ভয় পায় এবং পায়খানা প্রস্রাবের বেগ আসে। অথবা ,রোগী কাপড় পড়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাইরে বের হওয়ার মল ,মূত্রের বেগ।দিনরাত অসাড়ে মূত্রত্যাগ।সবসময় ভবিষ্যত সম্বন্ধে চিন্তা ও ভয় কাজ করে,সেইসাথে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কিন্তু খেলে রোগ বাড়ে।
মানুষ হিসেবে দিলখোলা - Extroverted,ফুর্তিবাজ।
সেইসাথে Headstrong বা Obstinate.
বাচ্চার সবুজ মল হচ্ছে,পাতলা পায়খানা হচ্ছে,খোঁজ নিয়ে দেখা গেল মা প্রচুর মিষ্টি বা চিনি খায়।বাচ্চাকে এবং মাকে যতক্ষণ না ঔষুধটা খাওয়াবেন,অসুখ ভালো হবেনা। -[হোমিওপ্যাথি কনসেপশন]।
আত্নহত্যার ইচ্ছে থাকে।বিশেষ করে জলে ডুবে এবং উঁচু স্থান থেকে লাফ দিয়ে আত্নহত্যায় ইচ্ছুক থাকে। উঁচুস্থানে উঠলে লাফিয়ে পড়ার প্রবৃত্তি জাগ্রত হয়।
মাসিকের সময় সকল যন্ত্রণা বেড়ে যায়। স্ত্রীজননেন্দ্রিয় এতটাই স্পর্শকাতর থাকে যে সহবাস সহ্য করতে পারেনা। ক্রিয়োজোটের রোগিনীদের মত,এতেও সহবাসের পর প্রায়ই রক্তস্রাব হতে দেখা যায়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায় ইমপোটেন্সি বা ধ্বজভঙ্গ।
কাঁটাফোটার মত ব্যথা আর্জেন্ট নাইটের বিশেষ নির্দেশক লক্ষণ।ব্যথাযুক্তস্থানে কাঁটা ফুটে আছে মত অনুভূতি থাকে। হিপার এবং নাইট্রিক এসিডেও কাঁটা ফোটার মত ব্যথা দেখা যায়। গায়কদের স্বরবঙ্গে কাঁটা ফোটার মত ব্যথা থাকলে আর্জেন্ট নাইট প্রয়োগে চমৎকার ফল পাবেন।আমি আমার একবান্ধবীর স্বরভঙ্গ কস্টিকাম প্রয়োগে আরোগ্য করেছি।অবশ্য কস্টিকামে আর্জেন্ট নাইটের মত কাঁটা ফুটে থাকার অনুভূতি থাকেনা।
সুপারস্টার হোমিওপ্যাথগণ মাত্র দুই তিনটে লক্ষণের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে এবং খুব সহজভাবে ঔষধটিকে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ১.খোলা বাতাসের আকাঙ্ক্ষা করে। ২.মিষ্টির প্রতি বিশেষ আকাঙ্ক্ষা। ৩.লবণের প্রতি বিশেষ আকাঙ্ক্ষা। ----এই তিনটি লক্ষণ পেলে আর্জেন্ট নাইট্রিকাম সুনির্দিষ্ট হয়।আবার যদি মিষ্টির প্রতি আকাংখা এবং লবণের প্রতি আকাংখা লক্ষণদুটো একত্রে থাকে তাহলেও আর্জেন্ট নাইট্রিকাম সামনে চলে আসে।সঙ্গে গরমকাতরতা থাকলে নিশ্চিতভাবে ঔষধটাকে প্রয়োগ করতে পারবেন।-[হোমিওপ্যাথি কনসেপশন]।
আর্জেন্ট নাইট্রিকাম বিষযুক্ত শিশুর দৈহিক গঠন শীর্ণ।বর্দ্ধন স্থগিত হয়ে বৃদ্ধের মত দেখায়।নবজাত শিশুকে হনুমানের বাচ্চার মত দেখায়।এধরণের শিশু গরম মোটেই সহ্য করতে পারেনা।বেশি গরমের দিনে কয়েকবার গোসল করে।খোলা ও ঠান্ডা বাতাস পছন্দ করে।ক্ষুধা কম।ভয় খুব বেশী।তাড়াতাড়ি খায়,তাড়াতাড়ি হাঁটে।কোনস্থানে যাওয়ার কথা থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে সেখানে যায়।ব্যস্তবাগীস।সারাজীবন উদরাময়ে ভুগে।কোথাও রওনা দেওয়ার প্রাক্কালে জামা-কাপড় পড়ার পর মল বা মূত্র বেগ আসে অথবা পথিমধ্যে যেয়ে যদি মলমূত্রের বেগ আসে তখন কেমন হবে এই ভেবে বেগ না আসা সত্ত্বেও জোর করে অগ্রীম মলমূত্র করে লয়।উঁচু বাড়ির দিকে তাকালে মাথা ঘুরে ও মনে হয় বাড়িটি যদি হঠাৎ হুড়মুড় করে ভেঙ্গে আমার উপর পড়ে-তখন কেমন হবে ভেবে রাস্তার এক পার্শ্ব দিয়ে হাঁটে যেখানে অধিকতর নিরাপদ।
সবসময় সাথী চায়।একা থাকতে পারেনা।ভবিষ্যৎ অমঙ্গল আশঙ্কায় সর্বদা ব্যাকুল থাকে।ডাকপিয়নকে দেখে মনে করে কি বা দুঃসংবাদ চিঠিতে আছে।যুক্তিতর্ক দ্বারা স্থির মীমাংসায় উপনীত হতে পারেনা।সবসময় যদির উপর চিন্তা করে।ঐটা করলে যদি ঐটা হয়-ঐটা করলে যদি সেইটা হয়,এই রকম চিন্তায় সব সময় দোদুল্যমান থাকে।মিষ্টি খেতে ভালবাসে এবং খায়ও-কিন্তু খেলে অসুখ হয়।তবুও খায়।পেটে খুব গ্যাস হয়।গ্যাস উর্দ্ধ বা অধঃ-অর্থাৎ ঢেঁকুর বা বাতকর্ম,যে আকারেই বের হোক-শব্দ করে বেরোয়।এটা এই বিষের বিশেষত্ব।এই বিষযুক্ত শিশু পরবর্তী জীবনে রাজযক্ষায় আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে নিজ শরীরে।তবে সময় মত বা শিশুকালেই এর উচ্চ শক্তি ব্যবহারে বিষটি নষ্ট করলে পরবর্তী যাবতীয় রোগ আসা বারিত হয়ে যায়।
---[শিশু চিকিত্সায় হোমিওপ্যাথি]।
সময় নিয়ে ভুল ধারণা বিরাজ করে।যাকে রিপোর্টরির ভাষায় বলা হয় ডেলুশন বা ভ্রান্তি বা ভ্রান্তবিশ্বাস।
সময় অত্যন্ত ধীরে চলছে এমন একটি অনুভূতি আর্জেন্ট নাইটের রোগীদের মনে কাজ করে।
তুলনা :
♡সময় ধীরে ধীরে কাটছে ,একঘন্টা মনে হয় অর্ধেক-এলুমিনা ও ক্যানাবিস ইন্ডিকা।
♡সময় ধীরে ধীরে চলে-আর্জেন্ট নাইট।
♡সময় খুব তাড়াতাড়ি চলে/কেটে যায়,এমন অনুভূতি-কোকাস,থেরিডিয়ন।

No comments:

Post a Comment