Saturday, August 6, 2016

সকালে নিয়মিত "লেবু পানি" পান করলে আপনার শরীরে ঘটে যে ২০ টি ম্যাজিক!



স্বাস্থ্য রক্ষায় বা ওজন কমাতেই অনেকেই সকাল সকাল পাকা লেবুর রসের সাথে হালকা গরম পানি মিশিয়ে পান করে থাকেন। সকাল সকাল লেবু পানি পান করা যে ভালো, এটা অনেকেই জানেন।
কিন্তু জানেন কি, আসলে কেন ভালো? যদি নিয়মিত রোজ সকালে এক কাপ লেবু পানি পান করেন, আপনাদের দেহ পাবে ২০টি জাদুকরী উপকারিতা। চলুন, জেনে নিই বিস্তারিত।
) লেমন, অর্থাৎ পাকা লেবুতে থাকে ইলেকট্রোলাইটস ( যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি) সকাল সকাল লেবু পানি আপনাকে হাইড্রেট করে, শরীরে যোগান দেয় এইসব প্রয়োজনীয় উপাদানের।
) হাড় জয়েনট মাসল পেইন কমায় দ্রুত।
) লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড। সকাল সকাল উষ্ণ পানির সাথে পান করলে সেটা আপনার হজমতন্ত্রকে উন্নত করে সমস্যা রাখে দূরে।
) অন্য যে কোন খাবারের চাইতে লেবু পানির ব্যবহারে লিভার অনেক বেশী দেহের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করতে পারে।
) লেবু পানি টক্সিক উপাদান দূর করে লিভারকে পরিষ্কার রাখে।
) পেট পরিষ্কার ভালো টয়লেট হতে সহায়তা করে।
) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
) আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।
) লেবু পানি শরীরের রক্তবাহী ধমনী শিরাগুলোকে পরিষ্কার রাখে।
১০) উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।
১১) শরীরের পি এইচ লেভেল উন্নত করে। পি এইচ লেভেল যত উন্নত, শরীর রোগের সাথে লড়াই করতে তত সক্ষম।
১২) ইউরিক এসিড সমস্যা দূর করতে সহায়ক।
১৩) আপনার ত্বককে কর তোলে সুন্দর পরিষ্কার।
১৪) বুক জ্বলা পড়া দূর করে। যাদের এই সমস্যা আছে রোজ আধা কাপ পানির মাঝে চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।
১৫) কিডনী প্যানক্রিয়াসের পাথর দূর করতে অসাধারণ কার্যকর।
১৬) ওজন দ্রুত কমাতে সহায়তা করে। লেবুতে থাকে পেকটিন ফাইবার যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে।
১৭) গর্ভবতী নারীদের জন্য খুবই ভালো লেবু পানি। এটা শুধু নারীর শরীরই ভালো রাখে না। বরং গর্ভের শিশুর অনেক বেশী উপকার করে। লেবুর ভিটামিন সি পটাশিয়াম শিশুর হাড়, মস্তিষ্ক দেহের কোষ গঠনে সহায়তা করে। মাকেও গরভকালে রোগ বালাই থেকে দূরে থাকে।
১৮) দাঁতের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। দাঁত ব্যথা কমায়।
১৯) ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
২০) মেটাবলিজম বা হজমশক্তি বাড়ায়। এতে ওজন কমাতেও প্রভাব পড়ে।
কীভাবে পান করবেন?
সকালে খালি পেতে এক গ্লাস লেমন বা পাকা লেবুর রস মেশানো উষ্ণ পানি পান করুন। চাইলে সাথে যোগ করতে পারেন মধু। বড় লেবু হলে /২টি ছোট হলে একটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন।

আলু এর ঔষধি গুন ও এর উপকারিতা


আলু প্রায় সকলের পছন্দের একটি সবজি। বহুমুখি ব্যবহারের জন্য আলুকে নিয়ে রয়েছে নানা প্রবাদ। রমজানের ইফতার সেহরিতে প্রায় প্রতিটি বাড়ির খাবার টেবিলে থাকে আলুর তৈরি কোন না কোন পদ। আজ আমরা জানব আলুর গুণাগুন উপকারিতা সম্পর্কে। আলু সোলানেসি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত একটি কার্বোহাইড্রেট কন্দযুক্ত শস্য। এর বৈজ্ঞানিক নাম সোলানাম টিউবেরোজাম। বিশ্বে উচ্চহারে অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত শস্যের তালিকায় আলুর স্থান চতুর্থ।
আলুর উপকারিতা: আলুতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন খনিজ উপাদান, যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে আছে ক্যারোটিনয়েড পলিফেনলের মতো প্রয়োজনীয় ফাইটোকেমিক্যাল। পুষ্টিমান বিবেচনায় আলুর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর কার্বোহাইড্রেট উপাদান। একটি মাঝারি আকারের আলুতে রয়েছে প্রায় ২৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। আলুর কার্বোহাইড্রেট অংশের উল্লেখযোগ্য অবস্থা হচ্ছে স্টার্চ। আর খুব সামান্য হলেও স্টার্চের একটি বিশেষ অংশ আমাদের শরীরে বিভিন্ন কাজে লাগে। রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ রান্নার পর শতকরা ভাগ এবং ঠান্ডা করার পর শতকরা ১৩ ভাগে উন্নীত হয়ে থাকে। তবে সাধারণত ছালের ঠিক ভেতরের পাতলা স্তরে আলুর বেশিরভাগ পুষ্টি থাকে। এজন্য আলু ছোলা অর্থাৎ কাটা রান্নার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন, নয়তো পুষ্টিমান কমে যেতে পারে।
গুনাগুণ: কার্বোহাইড্রেট ক্যালরিসমৃদ্ধ আলু আমাদের শারীরিক শক্তির উৎস। ভিটামিন সি, ভিটামিন-বি৬, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ফাইবারে সমৃদ্ধ থাকার কারণে আলু আমাদের শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি খুব সহজেই মেটাতে পারে। মিষ্টি আলুতে ক্যালরি খুব কম এবং প্রায় ফ্যাট নেই বললেই চলে। তাই যাদের ক্ষেত্রে ক্যালরি ফ্যাটে সমস্যা তারাও আলু খেতে পারবে। আলুতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, পটাশিয়াম ভিটামিন-, যা খুবই প্রয়োজনীয়। এনার্জি বা শক্তি উৎপাদক হিসেবে আলু খুবই নির্ভরযোগ্য একটি খাদ্য। আলু থেকে প্রাপ্ত শক্তি লাইকোজেন হিসেবে মাংসপেশি লিভারে সঞ্চিত থাকে। তাই শারীরিক ব্যয়ামের ক্ষেত্রে বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জন্য আলু একটি উত্তম খাদ্য। আলু কম মাত্রায় সোডিয়ামযুক্ত, প্রায় ফ্যাটমুক্ত সহজে হজমযোগ্য হওয়ার কারণে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখা যায়। স্টমাক আলসার বা পাকস্থলীর ক্ষত নিরাময়ে কোলন বা অন্ত্রের ফুলে যাওয়ায় আলু খুবই উপকারী। উচ্চমানের ফাইভার থাকায় হেমোরয়েড বা অর্শ্ব রোগেও আলু খুব সাহায্য করে থাকে। উচ্চমানের ভিটামিন এর সমৃদ্ধতার কারণে গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি এপিথেলিয়াল টিস্যুযুক্ত। অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধে আলু সাহায্য করতে পারে। আলু রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি একটি উপকারী খাদ্য। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক প্রতিরোধেও আলু সাহায্য করে থাকে। পটাশিয়াম থাকার কারণে আলু আমাদের দেহ কোষে ইলেক্ট্রোলাইট ফ্লুইডের সমতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। হার্টের স্বাভাবিক কাজকর্মে সাহায্য করার পাশাপাশি ব্লাডপ্রেসারও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।