দুই শতাধিক নানা প্রজাতির বনসাই নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী ‘মায়াবী বনসাই’।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু এই প্রদর্শনীর উদ্যোক্তা রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটি।
দেশে চলমান জঙ্গিবাদ অস্থিরতার মধ্যে প্রকৃতিপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে প্রদর্শনীটি বনসাইশিল্পী লায়লা আহম্মেদের সংগ্রহে থাকা নানা জাতের বনসাই নিয়ে সাজানো হয়েছে।
টানা ১৬ বছর ধরে বনসাইয়ের মতো জটিল অথচ নান্দনিক শিল্পকর্মের চর্চা করছেন শিল্পী লায়লা আহম্মেদ। চারুকলা অনুষদের ২ নম্বর গ্যালারিতে ঢুকতেই মনে হবে, যেন কোনো বনসাইয়ের বাগানে ঢুকে পড়া হল।
প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে নানা জাতের, নানা আকারের বট ও পাকুরের বনসাই। অশত্থ বট, পাকুড় বটের ডালে ডালে, ফুল-পাতায় কল্পনার রং এঁকে দিয়েছেন লায়লা আহমেদ।
প্রদর্শনীতে রয়েছে বাহারি সব ফুলের বনসাই। কোনোটার নাম কানাই ডিঙ্গা আবার কোনোটার নীলকণ্ঠ, জিলাপি ইত্যাদি। এগুলো দুর্লভ প্রজাতির বনসাই। ছিল যজ্ঞডুমুর, হিজল, কাঠমালতি, নিশিন্দা, জারুলের বনসাই।
একই গাছকে নানা আকার ও আকৃতি দিয়ে উপস্থাপন করেছেন শিল্পী লায়লা।
প্রদর্শনীতে নজর কাড়বে রাধাচূড়া, তেতুল, ডুমুর, নিশিন্দা, কৎবেল, কেওড়া, অর্জুন, তমাল, ঘূর্ণিবিবি, বইচি, কাঁটা মেহেন্দি, বিলেতি মেহেন্দি, কেলিকদম, ফোটাকাপার্স, টগর, কাঁঠালিচাঁপা, বাগানবিলাস, শেওড়া, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, রঙ্গন, চেরি ইত্যাদি গাছের বনসাই।
বিদেশি জাতের মধ্যে রয়েছে চাইনিজ বট, ল্যান্টিনা, ফোকেনট্রি, বাওবাব, জেটপ্লান্ট, ইপিল-ইপিল, জুপিটাস ইত্যাদি।
লায়লা আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা শহরে যেভাবে দালানকোঠা গড়ে উঠছে, তাতে খোলা জায়গা ও গাছপালা কমে যাচ্ছে। আমরা চাইলেই বড় গাছ লাগাতে পারছি না।
“বনসাই যেহেতু অল্প জায়গায় ও ছোট পটে তৈরি করা যায়, তাই আমরা বিভিন্ন রকমের বনসাই দিয়ে ঘরের বা অফিসের জানালায়, বেলকনি, বারান্দা ও ছাদের বিভিন্ন স্থানে ছোট পরিসরে বাগান করতে পারি। এতে কিছুটা হলেও আমরা সবুজের ছোঁয়া পেতে পারি।”
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করতে এসে প্রকৃতিবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা বলেন, “কোনো হেলাফেলার শিল্প নয় বনসাই। এটা নান্দনিক শিল্প। দিন দিন এর কদর বাড়ছেই।”
গাছের ‘বামনত্ব’ করা হচ্ছে এমন সমালোচনার কোনো ‘প্রকৃতিগত ভিত্তি নেই’ বলে জানান এই প্রকৃতিবিদ।
তিনি বলেন, “বনসাই শিল্পী প্রতিক্ষণ পরিচর্যার মধ্যে থাকে। ভালো যত্নআত্তি পায়। অথচ একই গাছ প্রকৃতিতে অনাদরে বেড়ে উঠে। আদরে গড়ে উঠা গাছটি টেবিলে সাজিয়ে রাখা যায়। প্রকৃতিতে বেড়ে উঠা গাছটি বাইরের সৌন্দর্য বাড়ায়, ঘরের ভেতর নয়।”
নিসর্গী ও কথাশিল্পী বিপ্রদাশ বড়ুয়া বলেন, “বনসাই হচ্ছে বিন্দু থেকে সিন্ধুকে দেখা এক অনন্য শিল্প মাধ্যম। ঘরের সৌন্দর্য যেমন বাড়ায়, তেমনি মাটির কাছে প্রাণের কাছে নিয়ে যায় এই শিল্প।”
প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পাশাপাশি ইচ্ছে করলে কেনা যাবে বনসাই। দাম পড়বে ৫০০ থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
লায়লা জানান, প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী বট-পাকুড় প্রজাতির বনসাইয়ের দাম হাঁকা হচ্ছে ৭০ হাজার টাকা। এক থেকে দেড় বছর বয়সী বিভিন্ন প্রজাতির বনসাইয়ের দাম পড়বে ৫০০ টাকা।
প্রদর্শনী ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
No comments:
Post a Comment